কলকাতা: ভারতের স্মার্টফোন শিল্প মোবাইল ফোনে Goods and Services Tax বা GST কমানোর দাবি তুলেছে। শিল্প সংগঠন India Cellular and Electronics Association (ICEA) কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে মোবাইল ফোনের GST বর্তমান ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার আবেদন জানিয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি। আগামী GST Council-এর বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করারও আবেদন জানানো হয়েছে। ইপিএফের বেতনসীমা ১৫ হাজার থেকে বেড়ে হতে পারে ২৫ হাজার, কর্মচারীদের জন্য বাস্তবে কী বদল হবে?
ICEA-এর বক্তব্য, GST কমানো হলে স্মার্টফোনের দাম কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। এর ফলে দুর্বল হয়ে পড়া দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বাড়তে পারে এবং স্মার্টফোন উৎপাদন ও ব্যবহার—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। শিল্প সংগঠনটির দাবি, গত এক বছরে এন্ট্রি-লেভেল স্মার্টফোনের দাম প্রায় ৩৫–৪৫ শতাংশ বেড়েছে।
ফলে বিশেষ করে সাশ্রয়ী ফোনের ক্রেতাদের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে দ্রুত বেড়ে যাওয়া কম্পোনেন্টের দামকে চিহ্নিত করেছে ICEA। গত কয়েক মাসে মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত চিপের দাম বেড়েছে হু হু করে। আর তার ফলে বেড়েছে ফোনের দাম।
একই সঙ্গে ডলারের তুলনায় কিছুটা দুর্বল হয়েছে ভারতীয় টাকা। আর সেই কারণে দাম বেড়েছে স্মার্টফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশেরও। এই সব মিলিয়েও গত কয়েকটা মাসে হু হু করে বেড়ে গিয়েছে স্মার্টফোনের দাম। বিশেষ করে মেমোরি বা স্টোরেজ-সংক্রান্ত উপাদানের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ICEA-এর দাবি, গত সময়ে মেমোরির দাম প্রায় চারগুণ হয়েছে। বিশ্বজুড়ে AI ডেটা সেন্টারের জন্য মেমোরির চাহিদা বাড়ায় সরবরাহের উপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি স্মার্টফোনের উৎপাদন খরচেও পড়ছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে ১০ হাজার টাকার নিচের স্মার্টফোন সেগমেন্টে।
ICEA-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে এই দামের ফোন মোট শিল্প সরবরাহের ৫ শতাংশেরও কম। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়ী স্মার্টফোনের বিকল্প ক্রমশ কমছে। ICEA মনে করছে, GST ৫ শতাংশে নামানো হলে করের বোঝা কমবে এবং নির্মাতারা তুলনামূলক কম দামে ফোন বাজারে আনতে পারবেন।
এতে দেশীয় চাহিদা পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পাশাপাশি স্মার্টফোনের ব্যবহারও বাড়তে পারে। ভারতে মোবাইল ফোন রফতানি গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে দেশকে বড় ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ বাজারও প্রয়োজন বলে মনে করছে শিল্পমহল।
এখন GST Council-এর পরবর্তী বৈঠকে এই প্রস্তাব কতটা গুরুত্ব পায়, সেদিকেই নজর শিল্পমহলের।
রাজ্য ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রশাসনিক ও স্থানীয় স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা ও নিরপেক্ষ তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ওটু নিউজ বাংলার মূল লক্ষ্য।
প্রতি মুহূর্তের তাজা বাংলা খবর এবং ব্রেকিং খবরের আপডেটের জন্য চোখ রাখুন ওটু নিউজ বাংলায়।