নয়াদিল্লি : ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যঙ্গাত্মক পদক্ষেপ হিসেবে মধ্য দিল্লিতে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করল একটি নতুন সংগঠন 'লাল হিট জনতা পার্টি'। বিক্ষোভের সময় পুলিশকে আক্রমণ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কুরুচিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তার নিন্দা জানাতেই তারা জমায়েত করে।
জনপ্রিয় একটি পোকামাকড়-নাশক ব্র্যান্ডের নামানুসারে এই নতুন সংগঠনটির নামকরণ করা হয়েছে। সংগঠনের প্রতিনিধি অয়ন ভাটনগর বলেন, "বাইরের কোনও ব্যক্তির প্রতিও কেউ কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করলে আমরা সাধারণত তা থামানোর চেষ্টা করি। আর প্রধানমন্ত্রী তো আমাদেরই পরিবারের একজন ; তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আমাদের জাতীয় বীর, জওয়ান এবং দিল্লি পুলিশের কর্মীদের প্রতি গালিগালাজ বা অপমানজনক আচরণ বন্ধ হওয়া উচিত এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। " বিক্ষোভকারীদের মতে, সিস্টেমে পরিবর্তনের দাবি জানানোর জন্য বর্তমান বিক্ষোভের ধারাটি সঠিক পথ নয়।
প্রসঙ্গত, ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এর আড়ালে ভোটার তালিকা বিকৃত করা এবং ভোটার হিসেবে নথিভুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নথি ‘ফর্ম ৬’ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিজের দুই সহকর্মীকে পাশ কাটানোর অভিযোগের মুখে পড়া মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে CJP একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে।
ওই সংগঠন এবং বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের অভিযোগ, এসআইআর (SIR)-এর আওতায় সারা দেশে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় জ্ঞানেশ কুমার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের নেতারা টানা তিন দিন বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।
এবার ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ‘লাল হিট জনতা পার্টি’ জানিয়েছে যে, সংবিধান, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা সমুন্নত রাখাই ছিল তাদের এই বিক্ষোভের লক্ষ্য। এক বিবৃতিতে সংগঠনের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সিজেপি-র কার্যকলাপ বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগ-সহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
ভাটনগর বলেন, যেসব কার্যকলাপকে তাঁরা আপত্তিকর বলে মনে করেন, সেগুলির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও আইনি উপায়ে তাঁদের বিরোধিতা অব্যাহত থাকবে। সংগঠনটি তরুণ নাগরিকদের, বিশেষ করে ‘জেনারেশন জেড’ (Gen Z)-এর সদস্যদের- গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, তথ্যভিত্তিক কমিউনিকেশন, জনসচেতনতা ও আইনি পথের মাধ্যমে মতপার্থক্যের নিরসন ঘটাতে আহ্বান জানিয়েছে।
রাজ্য ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রশাসনিক ও স্থানীয় স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা ও নিরপেক্ষ তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ওটু নিউজ বাংলার মূল লক্ষ্য।
প্রতি মুহূর্তের তাজা বাংলা খবর এবং ব্রেকিং খবরের আপডেটের জন্য চোখ রাখুন ওটু নিউজ বাংলায়।